এবার বহরমপুরে কঠিন লড়াইয়ে অধীর

সব অংক সব সময় মেলে না ঠিকই কিন্তু এবার বহরমপুরের অংক বেশ জটিল। এতদিন অধীর চৌধুরী ফুৎকারে উড়িয়ে দিতেন সবাইকে। এবার কিন্তু ব্যাপারটা ততটা সহজ নয়। টানা ২৫ বছর সংসদের ভিতরে কাটিয়ে দিয়েছেন। সংসদীয় রাজনীতিতে ধারে ভারে অভিজ্ঞতায় তিনি ৪২ টি কেন্দ্রের যে কোনও দলের প্রার্থীর থেকে এগিয়ে। ডাবল হ্যাটট্রিকের সুযোগের সামনে দাঁড়িয়েও বাংলার কংগ্রেস সভাপতিকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। তাঁর ট্র্যাক রেকর্ড যেমন তাঁর পুঁজি ঠিক তেমনই প্রত্যাশার পাহাড় প্রমাণ চাপই অধীরের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ এবং বহরমপুরের নামকরা ডাক্তারবাবু নির্মল কুমার সাহার সঙ্গে টক্কর দিতে নেমেও প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছুই বলার নেই অধীরের। কি করেই বা বলবেন? জনপ্রিয় নির্মল ডাক্তারের কাছে সুচিকিৎসা পায়নি এমন পরিবার বহরমপুর এবং সংলগ্ন অঞ্চলে আছে নাকি? অধীর নিজেও নির্মল ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করিয়েছেন একসময়!
দুজনেই ভোট প্রচারে বেড়িতে পথে মুখোমুখি। দারুন প্রতিপক্ষ হয়েও অধীরের দিকে সৌজন্যের ফুল ছুড়ে দিলেন ডাক্তারবাবু। যা দেখে অনেকেই বলছেন, নামকরা চিকিৎসক যেন হালফিলের অ-সৌজন্যের রাজনীতির চিকিৎসা করতে নেমেছেন। এমন উদার মনষ্ক শিক্ষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই কি সহজ হতে পারে! উত্তরটা যদিও মিলবে ৪ জুন। এদিকে বিশেষজ্ঞারা বলেছেন, আসল লড়াই অধীর বনাম ডাক্তার নির্মল কুমার সাহার। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বহরমপুর লোকসভায় মুসলিম ভোট যদি অধীর এবং ইউসুফ পাঠানের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায় তাহলে পোয়া বারো বিজেপির। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ৪ জুন পর্যন্ত।
